সংবাদ শিরোনাম
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‍্যালী কমলগঞ্জে ট্র্যাকিং ডিভাইস সহ লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত করন কর্মসূচি কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরলেন আল-মামুন সরকার কমলগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ আমরাই সরাইলের আ’লীগ, আমরা ছিলাম, আমরাই আছি ; প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তারা বিজয়নগরে বন্যার পরিস্থিতি অবনতি।। প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন; পৌর মেয়র নায়ার কবির বিজয়নগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র জরুরী সভা অনুষ্ঠিত সরাইলে পশুর হাটে হাঁটু পানি।। বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতা।। লোকসানে ইজারাদার
পিঠা উৎসবের নামে চিকিৎসকদের গানের উৎসব; দূর্ভোগের শিকার রোগীরা (ভিডিও সহ)

পিঠা উৎসবের নামে চিকিৎসকদের গানের উৎসব; দূর্ভোগের শিকার রোগীরা (ভিডিও সহ)

বিশেষ প্রতিবেদক//সময়নিউজবিডি 

ব্যাডমিন্টন খেলার প্রতিযোগিতা ও পিঠা উৎসবের নামে চিকিৎসকদের চলছে গানের উৎসব ডিজে কনসার্ট। এ ঘটনায় জেলা শহর জুড়ে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে চিকিৎসকদের গানের এ উৎসবটি অনেক ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের স্মার্ট ফোনের ক্যামেরাই ভিডিও করে ফেসবুক লাইভও করছেন। যার ফলে দেশ ও বিদেশে বাংলাদেশীদের নজরেও পড়েছে এই সমালোচিত গানের উৎসবটি। কেউ কেউ বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মন্তব্য করছেন ও এ ঘটনায় মহৎ এ সেবাদান কাজের চিকিৎসকদের প্রতি ঘৃণা জানিয়ে এর বিচারও দাবী করেছেন।মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বছরের শেষ ও নতুন বছরের শুভ সূচনা উপলক্ষে ব্যাডমিন্টন খেলার প্রতিযোগিতা ও পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন হেলথকেয়ার নামে একটি ঔষধ কোম্পানি। যেখানে কোন রকম গান বাজনা বা কনসার্ট হওয়ার অনুমোদন দেননি স্থানীয় প্রশাসন। 
একটি সূত্র জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন শাহ আলম, বিএমএ নেতা ডা: আবু সাঈদ ও হাসপাতালের তত্বাবধায়ক শওকত হোসেন।এছাড়াও হাসপাতালের ভেতরে অনুষ্ঠানস্থলে আতশবাজি ফুটিয়ে উল্লাস করা হয়। এই আয়োজনে গান বাজনা করতে স্টেজ বানানো হয় বহিঃবিভাগের গেটের সিঁড়িতে। এতে বিকট শব্দে চরম দুর্ভোগের শিকার হয় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীরা।

এদিকে থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া ও পাবলিকেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে দেশের কোথাও প্রকাশ্যে ও খোলামেলা স্থানে কিংবা বাসাবাড়ির ছাঁদে থার্টি ফার্স্টনাইট উদযাপনে কোন গানবাজনা ও কনসার্ট করা যাবেনা। 
সরকারের এমন নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও কিভাবে জেলা শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠনের ভিতরে সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চিকিৎসকরা এমন কনসার্ট করছেন তা বোধগম্য হচ্ছেনা সাধারন নাগরিকদের। তাহলে চিকিৎসকরা কি আইনের উর্ধ্বে। তাদের এমন কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও অভিভাবকরা। কনসার্ট চলাকালীন সময় রাত ১১টায় জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান ফটকে গিয়ে দেখা যায় সাধারন মানুষের মধ্যে এই কনসার্ট নিয়ে নানান মন্তব্য করতে। এমনই একজন বিজয়নগরের ৭০ উর্ধ্বো ময়দর আলী। তিনি এসেছেন তার স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য গত ৫দিন আগে। তিনি জানান, গানের এ বিকট শব্দে তার অসুস্থ স্ত্রী কয়েকবার আতঙ্কিত হয়ে বিছানা থেকে উঠেছেন। তিনি স্বামীর কাছে জানতে চেয়েছেন হাসপাতালের ভিতরে কি কোন কাইজ্জা (ঝগড়া) হচ্ছে কিনা। তখন ময়দর আলী বের হয়ে গিয়ে দেখেন নিচে মহিল্ পুরুষের সমাগমে সেখানে গানবাজনা হচ্ছে। দুনিয়া জুড়ে যেখানে হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে গাড়ির হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ ও কেউ হর্ণ বাজালে জরিমানার বিধান রয়েছে সেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের বহিঃবিভাগের সামনে পিঠা উৎসবের নামে এমন ডিজে কনসার্ট সচেতন ও সাধারন মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষই সৃষ্টি করে। এসময় অনেকেই বলছেন, কোথায় আমাদের প্রশাসন, কোথায় আমাদের আইন বাস্তবায়ন কাজে নিয়োজিত সংস্থা। কোথায় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ। নাকি চিকিৎসকরা যা ইচ্ছে তাই করার অনুমোদন আছে। এমন বিকৃত মানসিকতার চিকিৎসক দিয়ে মানুষের কি সেবা ও চিকিৎসা হবে সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের সাথে কনসার্টের মাধ্যমে তাদের কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে অনেকেই এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা অসহায়, আমরা বললে কি উনারা শুনবে। হাসপাতালে আমরা আসছি চিকিৎসা নিতে, গান শুনতে নয়। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি এসব বিকৃত মানসিকতার চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে যেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পিঠা উৎসবের নামে চিকিৎসকদের ডিজে কনসার্ট। ভিডিও চিত্রঃ ইফতেখার রিফাত।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের (জেলা সদর) তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন জানান, চিকিৎসকরাও অন্যান্য মানুষের মতো মানুষ। তাদের তো মানসিক প্রশান্তির দরকার আছে। তবে এরকমভাবে গানের আয়োজন হবে সেটা আমার জানা ছিলোনা।       
 

ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।                                            

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com