সংবাদ শিরোনাম
পাটগ্রামে রাসেলস ভাইপার সাপ সন্দেহে মেরে ফেলা হলো দুইটি সাপকে সাইলোর মতো খাদ্যভান্ডার ছিলো বলে আমরা করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো সমস্যা গুলো অতিক্রম করতে পেরেছি; খাদ্য মন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে শেরপুরে বাড়ছে নদ-নদীর পানি তিস্তাপাড়ের ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দু’জন নিহত আশুগঞ্জে মাদক সেবন নিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা পুলিশের উপর হিজড়াদের হামলা গ্রেফতার ৪ মাহিন্দ্র ট্রাক্টারের স্প্রিংয়ে গলা আটকে কৃষকের মৃত্যু বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টে টানা চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ মুজিব মুর‍্যালে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের কার্যক্রম শুরু

যারা রেল স্টেশন পুড়িয়েছে ও সহযোগিতা করেছে তাদের মুখে থুতু ফেলুন; মোকতাদির চৌধুরী এমপি 

যারা রেল স্টেশন পুড়িয়েছে ও সহযোগিতা করেছে তাদের মুখে থুতু ফেলুন; মোকতাদির চৌধুরী এমপি 

স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন যারা পুড়িয়েছে ও পুড়ানো কাজে যারা নেতৃত্ব ও সহযোগীতা করেছেন তাদের মুখে আসুন সবাই একসাথে থুতু নিক্ষেপ করি বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের পুনঃসংস্কার কাজ শেষে সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতির শুভ উদ্বোধনী উপলক্ষে পৌর আওয়ামীলীগ আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি আরো বলেন, গত ২৬ শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে হেফাজতের কর্মী সমর্থকরা হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ চালিয়ে স্টেশনের সিগনালিং সিস্টেম নষ্ট করে দেয়। এসময় তারা স্টেশনের টিকেট কাউন্টার, রেললাইন সহ পুরো রেলস্টেশনে ব্যাপক তান্ডব চালায়। তাদের বিচার দাবি করেন মোকতাদির চৌধুরী। তিনি উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, আচ্ছা বলুন যারা স্টেশন পুড়িয়েছে তারা মানুষ নাকি অমানুষ, তারা ভালো মানুষ নাকি খারাপ মানুষ। উপস্থিত জনসাধারণ তখন একত্রে এক সুরে তাদেরকে অমানুষ ও খারাপ মানুষ হিসেবে সম্মতি দেন।
মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ২৮ শে মার্চ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একজন মন্ত্রী মহোদয় মোবাইল ফোনে বলেছেন, ২৮ শে মার্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তান্ডবের ঘটনার জন্য আমি দায়ী, তখন মন্ত্রী মহোদয়কে আমি বলেছিলাম, তাহলে ২৬ ও ২৭ শে মার্চের জন্য কারা দায়ী। তখন মন্ত্রী মহোদয় চুপ হয়ে গিয়েছিলো।
সরকারের মধ্যে কিছু লোক আছে যারা স্বাধীনতা বিরোধীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তাদের জন্যই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সকল তান্ডবের ঘটনার মূল অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে নাসিরনগরে একটি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছিল। তখনও এটার জন্য আমাকেই দোষারোপ করা হয়েছিল। আমি তখন বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানিয়েছিলাম। কিন্তু নাসিরনগরের সেই ঘটনার একাধিক মামলা হলেও একটি মাত্র মামলার চার্জশীট দেওয়া হয়েছে।
মোকতাদির চৌধুরী এমপি আরো বলেন, হেফাজতের তাণ্ডবের পর বিধ্বস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনটি পুনঃসংস্কার করে দ্রুত সচল করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৭ মাস ২১ দিন পর রেলওয়ে স্টেশনের পুনঃসংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সে জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সুধী সমাবেশে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক পৌর চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাধারন সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক আলামিনুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত। এসময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মোঃ সোয়েব সহ জেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সুধী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আজ শনিবার সকাল রাজধানী ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর মহানগর জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের মাধ্যমে হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনের পুনঃসংস্কার কাজের শুভ উদ্বোধন ও পূর্বের ন্যায় সকল ট্রেনের যাত্রাবিরতি শুভ উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

ট্রেনে যাত্রীদের মাঝে ফুল বিতরণ করছেন মাননীয় রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

এসময় তিনি ট্রেনের যাত্রীদের মাঝে ফুল বিতরণ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওেয়ের মহাপরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ মজুমদারসহ রেলওেয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন।

২৬ শে মার্চ হেফাজতের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন। ফাইল ফটো।

উল্লেখ্য, গত ২৬ শে মার্চ ২০২১ ইং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরে আসার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি স্থাপনায় হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন হেফাজতের কর্মী সমর্থকরা। এরপর ২৭ শে মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা-চট্রগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-নোয়াখালী রেলপথে চলাচলকারী সকল ট্রেনের যাত্রা বিরতি বন্ধ করে দেন কর্তৃপক্ষ।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com