সংবাদ শিরোনাম
“স্মার্ট ডিভাইস পরিচালনার দক্ষতাকেই স্মার্ট হওয়া বোঝায় না বরং বই পড়ার মাধ্যমে স্মার্ট মানুষ হওয়া যায়; এডিসি সাইফুল ইসলাম অসুস্থ শিক্ষকের শয্যা পাশে কমলগঞ্জের ইউএনও কমলগঞ্জে আন্ত: বিভাগীয় ডাকাত সর্দার কালা বাবুল গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৫ হাজার ২শত কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ সরাইল উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের কার্যকরী কমিটির তিন জনকে সংবর্ধনা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকার ছড়াছড়ি – নবীনগরে জালনোটসহ একজন আটক।। ১৫ দিনের জেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হালাল বেকারির পাউরুটিতে নিষিদ্ধ ব্রোমেটের উপস্থিতি শোক সংবাদ: মোহাম্মদ আবু আহম্মদ মৃধার ইন্তেকাল চাঁদের নিচে কি ওঠা!

নিভৃতেই চলে গেলো ভাষা সংগ্রামী মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী 

নিভৃতেই চলে গেলো ভাষা সংগ্রামী মোহাম্মদ ইলিয়াসের ৩৪তম মৃত্যুবার্ষিকী 

শাব্বির এলাহী কমলগঞ্জ,(মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
কোন আয়োজন ছাড়াই নীরবে নিভৃতে চলে গেলো মহান রাষ্ট্র ভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেতা প্রখর মেধাবী ও দূরদর্শী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মোহাম্মদর ৩৪তম মৃত্যুবার্কী। তিনি ১৯৮৭ সালের ২১ নভেম্বর রাত পৌনে ১০টায় রাজধানীর  সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই রাজনৈতিক নেতা। দেশের রাজনৈতিক পটভূমি তখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছিলো। গণতন্ত্রের দাবিতে আর স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে, মিছিলে-মিটিংয়ে সোচ্চার বাংলাদেশ, ঠিক সে সময় ইলিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে এক গভীর শূন্যতা নেমে এসেছিলো রাজনৈতিক অঙ্গনে। বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণ অভ্যুথ্থান, সত্তরের সাধারণ নির্বাচন, একাত্তরের মুক্তি সংগ্রাম সহ এদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ক্রমধারায় বঙ্গবন্ধু, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা, মাওলানা ভাসানী ও জাতীয় চারনেতার পরে যার নাম একসময় সগর্বে উচ্চারিত হতো শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কন্ঠে, তিনি মোহাম্মদ ইলিয়াস। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক কিংবদন্তী জননেতা ইলিয়াস, অনেকের ইলিয়াস সাহেব। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে সুদীর্ঘকাল রাজনৈতিক সংগ্রামের নেতৃত্বে যাঁরা ছিলেন অসীম সাহসী ও ইষ্পাত কঠিন সংকল্পের অধিকারী এবং রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের নায়ক হিসেবে যাদের সফল কর্ম তৎপরতায় ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সংযোজিত হয়েছে। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার খুশালপুরের মৌলভী মোহাম্মদ তাহির ও মোছাম্মত জোবায়দা খাতুনের পুত্র মোহাম্মদ ইলিয়াসের জন্ম ১৯২১ সালের ডিসেম্বরে । তৎকালীন বেংগল মেডিক্যাল সার্ভিসের সদস্য খাঁন বাহাদুর ডাঃ বজলুল হাসানের ভ্রাতুষ্পূত্র ইলিয়াছ সত্যের পথে অবিচল থেকে দেশপ্রেম, ন্যায়পরায়ণতা, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার সাথে মানুষের জন্য রাজনীতি করে পাড় করে দিয়েছেন সারাটি জীবন। লেখাপড়ায়ও তীক্ষ্ম মেধাবী ইলিয়াস কমলগঞ্জ প্রাইমারী স্কুল, কমলগঞ্জ এম.ই.স্কুল এবং পরে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ ১ম বিভাগে (৪র্থ স্থানে) মেট্রিকুলেশন এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্টার মার্কসহ ১ম বিভাগে (৬ষ্ঠ স্থানে) আই,এস,সি, পাস করে ১৯৪৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংক ও পরিসংখ্যানে ডাবল অনার্স নিয়ে স্মাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। বায়ান্নোর ভাষা সৈনিক হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তাঁর রাজনীতি শুরু। মহান রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম নেপথ্য নায়ক এবং প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এদেশের প্রগতিশীল ধারার রাজনীতিতে তাঁর অবদান অবিস্বরনীয় । তুখোড় এই কমিউনিষ্ট নেতা সত্তরের নির্বাচনের পূর্বে বঙ্গবন্ধুর আহবানে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে সাধারণ নির্বাচনে এম,এল,এ নির্বাচিত হন। তারপর ’৭৩,’৭৯ ও ৮৬ সালের সাধারন নির্বাচনে পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বচিত হয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবন যাপনে অভ্যস্থ প্রচার বিমূখ এ মহান ব্যক্তিত্ব দলমত নির্বিশেষে সকলের কাছে একজন ভদ্র রাজনীতিবিদ হিসাবে স্বীকৃত্ব ছিলেন । অস্থিতিশীল রাজনীতিকে স্থিতিশীলতায় নিয়ে যেতে আজীবন সংগ্রামী জননেতা  মোহাম্মদ ইলিয়াস চা শ্রমিকদের উপর নানা নির্যাতন জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে তাদের সকল দাবী আদায়ে ছিলেন এক অগ্রপথিক সহমর্মী। নামের কাঙ্গাল কোন দিনই ছিলেন না তিনি, তাই তাঁর অক্লান্ত শ্রমে ও প্রচেষ্টায় কমলগঞ্জ গন মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্টায় তাঁর নামে এ কলেজের নামকরণে জনতার দাবী কৌশলে এড়িয়ে জনগনের মহাবিদ্যালয় কমলগঞ্জ গণ-মহাবিদ্যালয় নামকরণ তাঁর আত্মত্যাগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন শিক্ষাপ্রতিষ্টানের নামকরণে জনগণের মূল্যায়ন এভাবে আর কেউ করেছে কিনা জানা নেই। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ৪ নম্বর সেক্টরের রাজনৈতিক সমন্বয়কারী ইলিয়াছ কোন দিনই তার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় কিংবা বায়ান্নো থেকে একাত্তর পর্যন্ত দেশের নানা ক্রান্তিকালে নিজের অবদানকে জনসমক্ষে প্রকাশ করে রাজনৈতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্ট করেননি। ক্ষমতা ও ঐশ্বর্যের হাতছানী তাঁকে কখনো সততা ও আদর্শ থেকে বিন্দু মাত্র বিচ্যুত করতে পারেনি। উদার দৃষ্টি ভঙ্গী, সততা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত পথিক মোহাম্মদ ইলিয়াস এর কাছে যাদের রাজনৈতিক হাতে খঁড়ি, তাদের কাছে তিনি আজও সকল প্রেরণার উৎস, অন্ধকারের আলোর দিশারী। তবু সময়ের সাহসী সন্তান কিংবদন্তী জননেতা ইলিয়াসকে কেউ ভুলে, কেউ ভুলে না।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার (সকাল ৭:২৯)
  • ৯ই রমজান, ১৪৪৪ হিজরি
  • ১৮ই চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ (বসন্তকাল)
© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com
Translate »