সংবাদ শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগারে এক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত ১২১৮।। মৃত্যু- ৯ ও সুস্থ ১৩৪ জন  কসবায় চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সুমনকে গ্রেফতার  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ থেকে পড়ে আইনজীবী নিহত নবীনগরে র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি আটক  করোনার সম্মুখ যোদ্ধা ডিসি হায়াত উদ-দৌলা খাঁন ও তার পরিবারের রোগমুক্তি কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু  বিজয়নগরে নিখোঁজের ৪দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আজ করোনায় আক্রান্ত- ১৩৭ ও মৃত্যু -২  আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনায় আক্রান্ত- ৮৩ ও মৃত্যু -২ 
সরাইলে শতাধিক অবৈধ দখলদার বহালতবিয়তে টার্গেট শুধু ওজুখানা! 

সরাইলে শতাধিক অবৈধ দখলদার বহালতবিয়তে টার্গেট শুধু ওজুখানা! 

স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি
অবৈধ দখলের প্রতিযোগিতা সরাইলের সর্বত্রই। সরাইল সদরের হাসপাতাল মোড় থেকে সরাইল-অরূয়াইল সড়কের দু’পাশে শুধু দখল আর দখল। সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কের কুট্রাপাড়া মোড় থেকে ধর্মতীর্থ এলাকা পর্যন্ত দু’পাশে দখলদাররা বেশী বেপরোয়া। কৌশল তাদের ভিন্ন। সামান্য বালু ফেলে। ছোট একটি ঠং দোকান দিয়ে।
ফুটপাতে কিছুদিন নামমাত্র কিছু বিক্রি করে। সরকারি জায়গায় টিন দিয়ে মসজিদ দাঁড় করায়। পরে বড় করে স্থায়ী ইমারত গড়ে তুলেন। মসজিদের উপর তলায় মার্কেট করার চিন্তা চলছে। জায়গা সরকারি জামানত ও ভাড়া নিচ্ছেন কিছু প্রভাবশালী দখলদার। দখলদারদের বিরূদ্ধে ইউএন’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেন না। কারণ এসব দখলদারদের পেছনে সম্প্রতি কাজ করছে কিছু চিহ্নিত দালাল। প্রশাসনও নিরব। লাল কালির ক্রস চিহ্ন দিয়েও রহস্যজনক কারণে ব্যবস্থা নেই।
এমন শতশত দখলদারকে বহালতবিয়তে রেখেও প্রশাসনের টার্গেট এখন শুধু একটি ওজুখানা। আর সেই ওজুখানাটি হচ্ছে সড়কের পাশে ওয়াকফকৃত জায়গায় নির্মিত বায়তুন নুর জামে মসজিদের। অস্থায়ী এই ওজুখানাটিতে পাঁচ ওয়াক্ত শুধু মুসল্লিরাই ওজু করবে। এ ঘটনায় হতাশ হয়েছেন মুসল্লি সহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির লোকজন। তাদের বক্তব্য হচ্ছে আল্লাহর ঘর মসজিদে যারা সিজদা দিতে ও এবাদত করতে আসবেন তারাই তো এখানে ওজু করবেন।
সরকারের প্রয়োজনে যখন জায়গা নিয়ে যাবেন তখন তো কারো আপত্তি থাকবে না। স্থানিয় মুসল্লিরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন এখন কার ইশারায় ও স্বার্থে প্রশাসন বাঁধা দিচ্ছে তা আমরা বুঝতে পারছিনা। সরজমিনে মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, সরাইল হাসপাতাল মোড়ের সরকারি খাল ও সওজের জায়গা আরো ২৫-৩০ বছর আগেই দখল করে বসে আছেন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী। এ মোড় থেকে কালিকচ্ছের কলেজ মোড় পর্যন্ত পুরো খালটিই ভরাট করে নিয়েছে দখলদাররা। প্রত্যেকের প্রয়োজনে সওজের জায়গা ব্যবহারও করছেন। হাসপাতাল মোড়ে সওজের জায়গায় প্রথমে দু’চালা টিনের একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদের ওপর ভর করেই শুরূ হয় দখল পক্রিয়া। মসজিদের আশপাশে একাধিক দোকান ঘর করে জামানতের মাধ্যমে ভাড়া দেয়া হয়।
পরে গড়ে ওঠে ডিজিটাল হাসপাতাল। হাসপাতালের পূর্ব পাশের সিঁড়িটি পড়েছে সরকারি জায়গায়। আর পশ্চিম পাশে রয়েছে জেলা পরিষদের রাস্তা। যাহার বিএস দাগ নম্বর-১৪০৯৮, ১৪০৯৯ ও ১৪১০২। এই জায়গার মালিক বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক। এটি উত্তর দিকে গিয়ে আনন্দ মেডিকেলের সামনে দিয়ে পূর্ব দিকের সিএন্ডবি রাস্তার সাথে সংযুক্ত। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দখলদারদের কবলে এ রাস্তাটি।
সাধারণ জনগণ চলাচল করতে পারছেন না। ডিজিটাল হাসপাতালের পেছনে এ রাস্তাটিতে টিনের লম্বা ঘর করে দোকান বানিয়ে ভাড়া দিয়ে টাকা কামাই করছেন হাসপাতাল মালিক ইউনুছ মিয়া। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার ওই দোকান গুলোতে লাল কালির চিহ্ন দিয়েও রহস্যজনক কারনে কোন ব্যবস্থা নেননি। এখনও আছে সরকারি ভাবে দেওয়া সেই চিহ্ন।
জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হয়েও নির্বাহী কর্মকর্তা বা এসিল্যান্ডরা কেন এ জায়গা উদ্ধারে পিছু হটছেন বারবার প্রশ্ন সাধারণ জনগনের। সরাইল হাসপাতালের উত্তর পাশের ১৪৫৫৪ দাগের জায়গাটি টিএন্ডটি অফিসের। দুই বছর আগে স্থানীয় ভূমি অফিসের কিছু লোকের সহায়তায় ব্যাক্তি মালিকানা ভূমিতে যাওয়ার জন্য ২শত মিটার রাস্তা তৈরী করে ফেলে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান আসলেই স্থানীয় কতিপয় চামচা ও সওজের এক কর্মচারির মাধ্যমে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হাসপাতালের সিঁড়িটি ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করেন।
সিঁড়িটি সরকারি জায়গায় এরপরও ভাঙ্গা হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্ন করায় হাসপাতাল মোড় রণ ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি সরকারি জায়গার ওই মসজিদটির ভেতরে পিলার নির্মাণ করে ফাউন্ডেশন দেওয়া হয়েছে। কাজ গুলো করা হয়েছে রাতের বেলা। উদ্যেশ্য মসজিদের উপরে মার্কেট নির্মাণ করে বাণিজ্য করা। মসজিদটি শুরূ থেকেই উনার পারিবারিক বা মুঠোর ভেতরের পছন্দের লোকজনের সমন্বয়ে পরিচালনা কমিটি গঠন করে আসছেন।
এ ছাড়া গাছের গোল কাঠ বাঁশ ও বিভিন্ন ধরণের দোকানপাট করে সড়কের দু’পাশ দখল করে আছেন দখলদাররা। সরাইল-অরূয়াইল সড়কের দু’পাশেও একই চিত্র। এসব দখল নিয়ে বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। কোথায় প্রশাসন তো কোন ব্যবস্থা নেয়নি? কেন এবং কার ইন্ধনে এখন ওজুখানা ভেঙ্গে ফেলার কথা বলছেন প্রশাসন। শতশত মুসল্লি ও স্থানীয় লোকজনের দাবী মসজিদের ওজুখানাটি যেন ভাঙ্গা না হয়।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন শুধু মসজিদের অজুখানাটি নয় আমাদের কাছে আরো অনেক অভিযোগ আছে আমরা সব সরকারি জায়গা অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করব।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com