সংবাদ শিরোনাম
তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সরাইল ও নবীনগরে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের ভরাডুবি প্রবাসী পিতার ভোট দিতে এসে পুত্র আটক আগামীকাল সাহিত্য একাডেমির নানান আয়োজনে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান দিবস আগামী ৫ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন।। কাল থেকে আ’লীগের প্রার্থী বাছাই শুরু নাসিরনগরে যু্বলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত সরাইল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের দল থেকে বহিস্কার বিজয়নগরে ১০ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৭৫ জন ও অন্যান্য পদে ৪৬৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা নাসিরনগরে সাপ আতঙ্ক নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক  সততা ও ন্যায় পরায়ণতার মূর্তপ্রতীক ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মরহুম আলী আজম ভূইয়া; আল-মামুন সরকার
বিজয়নগরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ।। মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি

বিজয়নগরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ।। মামলা তুলে নিতে আসামীদের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় মোছাঃ রিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ৭ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতে রিমার পিতা আব্দুল বাছির বাদি হয়ে এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এতে রিমার স্বামী জুনাইদ মিয়াকে প্রধান আসামী করে ৪জনের নাম উল্লেখ্য করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- রিমার শ্বাশুড়ি মোছাঃ গুলচান বেগম, শ্বশুর শাহজাহান মিয়া ও ছোট ঝা মোছাঃ শারমিন আক্তার। বাদি ও বিবাদি সবাই উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
মামলায় নিহত রিমার মরদেহ পুনঃময়নাতদন্তের আবেদন করা হয়েছে। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে আদালতে এই মামলা দায়েরের পর মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য বাদীর পরিবারকে বিবাদিরা হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার বাদী মোঃ আব্দুল বাছির এই মর্মে অভিযোগ করে বলেন, রিমাকে হত্যার পর ফাঁসি ঝুলে আত্মহত্যা করার মিথ্যা কথা রটিয়েছে তার স্বামী জুনাইদ মিয়া। এই হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত জুনাইদ মিয়াকে প্রধান আসামী দিয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ্য তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি হত্যা মামলা করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ্য করা হয়, ২০১৮ সালে ইছাপুরা গ্রামের আব্দুল বাছিরের মেয়ে রিমা আক্তারের সাথে দশ লক্ষ টাকার কাবিননামায় একই গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে জুনাইদ মিয়ার বিবাহ হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের টাকার জন্য জুনাইদ প্রায়ই রিমাকে মারধর ও নির্যাতন করতো। রিমা সুখের কথা চিন্তা করে বাবার কাছ থেকে ওই সময় তিন লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দেন৷ তারপর রিমা একটি ছেলে সন্তান জন্ম দেন। কয়েকদিন যেতে না যেতে আবার জুনাইদ যৌতুকের টাকার জন্য রিমাকে অন্যায়ভাবে মারধর ও অত্যাচার শুরু করেন। জুনাইদ আরও পাঁচ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। বাবার কাছ থেকে যৌতুকের টাকা দেয়নি বলে রোবরাত রাতে রিমাকে আবার মারধোর করেন। ওইদিন দিবাগত রাতে রিমার মুখে ও গলায় চেপে এবং বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে।
নিহতের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, হত্যাকারীরা এলাকার কিছু সালিশকারক নিয়ে বিষয়টি রফাদফা করার চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, হত্যা বিষয়টি স্বীকার করেছেন জুনাইদ মিয়ার বাবা শাহজাহান ও তার চাচা হাজী কাসম আলী। টাকা-পয়সা দিয়ে শেষ করার জন্য চেষ্টা করতেছে। এবিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নিহতের পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। তিনি মেয়ে হারিয়ে এখন জীবন শংকায় আছেন। মেয়ে হত্যার বিচারের জন্য বিজয়নগর থানায় মামলা করতে গিয়ে মামলা করতে পারেননি। এজন্য তিনি মেয়ে হত্যার বিচারের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৩ আদালতে মামলা করেন।
ইছাপুরা গ্রামের মধ্যপাড়া ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহজাহান মিয়া জানান, এটা পরিকল্পিত হত্যা। এ হত্যাটি আত্মহত্যা হতে পারেনা। তারা রিমাকে মেরে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে। তারা নিহত পরিবারের হুমকিধামকি দিচ্ছে। যদি দ্রুত রিমার বিষয়টি সমাধান না করে তাহলে তারা হত্যার হুমকিও দিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে৷ রিমার সাথে যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অন্যায় ছিল। তিনি হত্যাকারীদেরকে দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি করেন।
গ্রামের শালিসকারক নজলু মিয়া বলেন, এর আগে তারা দুইজনকে হত্যা করেছে। এখন আবার আব্দুল বাছিরের মেয়েকে হত্যা করলো। এভাবে তারা একেরপর এক অন্যায় করে পাড় হয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকায় মাদক ব্যবসা করলেও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আসামীদের আটকের ক্ষেত্রে পুলিশ নিরম রয়েছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার না করলে তারা মানববন্ধন থেকে শুরু করে সংবাদ সম্মেলন করার ইচ্ছে আছে।
এই বিষয়ে মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী তারিকুল ইসলাম খান রুমা জানান, বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিল করতে আদেশ দিয়েছেন।
বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা মুহাম্মদ হাসান জানান, রিমা নামে এক গৃহবধূ ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিমার মৃত্যুটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর বিস্তারিত জানতে পারবো।।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com