সংবাদ শিরোনাম
আইনমন্ত্রীর পিএকে ঘুষ দিতে গিয়ে আটক ব্যক্তির শশুর বাড়ির আতিথেয়তা নিলেন কসবা উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরনগর উপজেলা জাতীয়তাবাদী প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ বিজয়নগর ইটভাটার সংস্কার কাজ করতে গিয়ে শ্রমিক নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেন মেয়র নায়ার কবির ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০৯১ জনের মধ্যে সরকারি ঘরের দলিল হস্তান্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিবন্ধীদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়া “বাতিঘর”‘র পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত প্রতিপক্ষের হামলায় আশুগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যানের ভাই নিহত।। আহত- ১২ বিজয়নগরে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এর উদ্যোগে অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পর্যটন কেন্দ্র স্থাপনের নির্মাণ কাজ শুরু হবে; জাবেদ আহমেদ নাসিরনগরে হিলিপ প্রকল্পের ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার
আজ ৩৭ তম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আন্দোলন ও শহীদ পলু দিবস

আজ ৩৭ তম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আন্দোলন ও শহীদ পলু দিবস

স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি

আজ ৩৭ তম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আন্দোলন ও শহীদ ওবায়দুর রউফ পলু দিবস। যার রক্তে আমরা পেয়েছিলাম একটা জেলা।
একজন বাউনবাইরার সন্তান হিসেবে আসুন জেনে নিই- জেলা আন্দোলনের ইতিহাস এবং বুকে লালন করি শহীদ পলুর স্মৃতি।
২৭ নভেম্বর বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাবাসীর স্মরণীয় ঐতিহাসিক ৩৭ তম জেলা আন্দোলন ও শহীদ ওবায়দুর রউফ পলু দিবস। আজ হতে ৩৭ বছর আগে বিগত ১৯৮৩ সালে সকল ধরণের প্রয়োজনীয় সরকারী প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বঞ্চিত তৎকালীন মহকুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জেলা ঘোষণা করার জন্য হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের নিকট দাবী জানিয়ে সর্বদলীয় এবং সর্বস্তরের জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে উঠে। সর্বদলীয় জেলা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ পালন করতে থাকে একের পর এক কর্মসূচী। আন্দোলন তীব্র গণআন্দোলনে রূপ নেয়ার পরও সেনা শাসকের সরকার দাবী না মেনে নিরবতা পালন করায় জেল জুলুমকে উপেক্ষা করে চূড়ান্ত পর্বে ২৭ নভেম্বর ডাকা হয় অনির্দিষ্টকালের হরতাল কর্মসূচী। আন্দোলনের তীব্রতায় অচল হয়ে যায় মহকুমা প্রশাসনের সকল কার্যক্রম। চূড়ান্ত পর্বে জেলা আন্দোলন সংগ্রাম পরিষদের আহুত ২৭ নভেম্বর দিনে হরতাল শুরু হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের ছাত্র জনতার অবরোধে ভোর হতে রেলওয়ে আর সড়ক পথে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় পূর্বাঞ্চলের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমানার বাইরে সকল স্থানে লঞ্চ ট্রেন বাস ট্রাক আটকা পড়ে যায় যাত্রী ও মালামালসহ। শহরের সকল অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে সর্বস্তরের নারী পুরুষ শিশু মিছিলে মিছিলে প্রকম্পিত করে তুলে রেল ও সড়ক পথ। অবরুদ্ধ পথে প্রতিবন্ধকতা (বেড়িকেড) তৈরী করে টায়ার গাছ ফেলে জ্বালানো হয় আগুন। সে আগুন ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ভবন, সিও অফিস, জনতা ব্যাংক প্রধান শাখা কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে। বিক্ষোভের আগুনে পুড়ে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয় সবকিছু। পুরো রেলওয়ে স্টেশনে নিয়োজিত তৎকালীন বিডিআর এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয় অবরোধকারী ছাত্র জনতা। সকাল থেকে চলতে থাকে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন রেলব্রীজের উপরে দাঁড়ানো ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের বিজ্ঞান দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ওবায়দুর রউফ পলুসহ কয়েকজন। তারা মহকুমা ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জেলা করার লক্ষ্যে আত্মদান করে শাহাদাৎ বরণ করেন। জনতা পলুর লাশ ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হলেও অন্যদের লাশ বিডিআর ছিনিয়ে নিয়ে গোপনে মাটি চাপা দেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ করেন। তবে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী সেটা অস্বীকার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে আসা সেনাবাহিনীর তাক করা সশস্ত্র সাঁজোয়া যানের উপস্থিতিতে থমথমে শহর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৭ নভেম্বর দুপুরে কালো পতাকায় ঢাকা ওবায়দুর রউফ পলুর শোকবাহী মৌন মিছিল নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মিলিত হয় বিশাল জানাজায়। 
একই দিন বিকেলে শহরতলীর শেরপুরস্থ হযরত মীর শাহাবুদ্দীনের (রাহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে লাখো মুসল্লীর অশ্রুসজল নয়নে দাফন সম্পন্ন হয় ওবায়দুর রউফ পলুর।  সুফল হিসেবে ১৯৮৩ সালের শেষ নাগাদ নিয়াজ মুহম্মদ স্টেডিয়ামে রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বিশাল জনসভায় তুমুল করতালির মধ্যে মহকুমার বিলুপ্তি ঘটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর দাবী ও পলুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে জেলার স্বীকৃতি ঘোষণা করেন। এর ধারাবাহিকতায় পরে স্থাপিত হয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়সহ জেলা পর্যায়ের পাসপোর্ট অফিস এবং বিভিন্ন দপ্তর। যার সুফল কাছে থেকে বর্তমানে ভোগ করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।
এদিকে, জেলা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নেতৃবৃন্দের কয়েকজন বর্তমানে আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কেহ অসুস্থ। অন্যরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন নিয়ে ব্যস্ত। এরই মধ্যে জেলা আন্দোলনের স্মৃতিকে টিকিয়ে রাখতে বিগত ১৯৯১ সালের ০১ নভেম্বর গঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে পলুর স্মৃতিকে চীর জাগরুক রাখতে কোর্ট রোড এর নাম পরিবর্তন করে শহীদ পলু সড়ক নামকরণ করেছে। পাশাপাশি জেলাবাসীর স্বার্থে বাংলাদেশ সরকারের নিকট বিভিন্ন দাবী জানিয়ে এসেছে।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com