সংবাদ শিরোনাম
বিজয়নগরে শিক্ষার্থীর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা।। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সহপাঠীরা কমলগঞ্জে পুবালী ব্যাংক’র এটিএম বুথের উদ্বোধন চীফ জুডিসিয়াল আদালতে প্রাঙ্গণে জেলা ও দায়রা জজ বেগম শারমিন নিগারের উপস্থিতিতে বিপুল পরিমাণের মাদক ধ্বংস ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ক্যাম্পেইন-২০২২ ও ঋণ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সরাইলে বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয়েছে নবীনগরে পুকুরের পানি থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার অবৈধ অনুপ্রবেশ।। কারাভোগ শেষে নিজ দেশে ফিরলেন ভারতীয় যুবক কমলগঞ্জে সামাজিক সম্প্রীতি কমিটির সভা বিজয়নগরে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট সরাইলে প্রাণীসম্পদ উন্নয়নে ৪দিন ব্যাপি প্রশিক্ষন কর্মশালা সম্পন্ন

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদের ৯৮% মন্ত্রীরা খন্দকার মোশতাক এর মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন; উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদের ৯৮% মন্ত্রীরা খন্দকার মোশতাক এর মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন; উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি

Advertisements

স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেছেন, বিশাল বিশাল আওয়ামীলীগ নেতারাও ১৯৭৫ সনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ছিলেন, কিন্তু তখন কাউকেই পাওয়া যায়নি। জাতিরজনক শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ মানুষ খালেদ মোশাররফ বঙ্গবন্ধুর সকল খুনিদের থাইল্যান্ডে নিরাপদে পাঠিয়ে দিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদের ৯৮% মন্ত্রীরা খন্দকার মোশতাক এর মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন। আমি মনে করি এ বিষয়ে একটা তদন্ত কমিশন করা উচিত। কারা সেদিন আওয়ামীলীগে থেকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে জড়িত ছিলো এবং মোশতাকের মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। ঘরের শত্রুই বড় শত্রু।
সোমবার (১৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০ টায় স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসন ও শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোকতাদির চৌধুরী আরো বলেন, ১৯৭৫ সনের ৪ঠা নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে যে মিছিল আমরা বের করেছিলাম সেদিন কারা কারা উপস্থিত ছিলেন আমি দেখেছি। আর এখন দেখছি সেই নেতারাই জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেন। তিনি বলেন, এরশাদের মতো এতো জগন্যতম মানুষ আর নেই। এমন কোনো অপকর্ম নাই যা তিনি করেননি।
এখনও আওয়ামীলীগকে কটাক্ষ করে আওয়ামীলীগের সমর্থকরা যা বলে তা আওয়ামী বিরোধীরা বলে না মন্তব্য করে মোকতাদির চৌধুরী এমপি বলেন, আমরা যতোটানা বঙ্গবন্ধুর কথা মুখে বলি ততোটা মনের মধ্যে ধারন করিনা। কারন বঙ্গবন্ধুর আদর্শে কোনো ধর্মের ভেদাভেদ নেই। কিন্তু যাদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নেই তারাই ধর্মকে আলাদা করেন। এই শহরের মুক্তিযোদ্ধারাও ১৯৭৫ সালে জয় বাংলা বলেনি। আমরা আমাদের অবস্থানটা বুঝতে পারি না, ৭৫ সনে যদি আমরা সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রে থাকতাম তাহলে সেদিনও আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারতাম। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মূল উদ্দেশ্য ছিলো তাঁর আদর্শকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যা কিছু সাধারন মানুষকে ভাবায় তা আমিও ভাবি।
বঙ্গবন্ধুকে যদি আপনি ভালোবাসেন, তাহলে বঙ্গবন্ধুর পুরো আদর্শকে ভালোবাসুন। সে জন্য বঙ্গবন্ধুকে ভালোভাবে জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু যা চেয়েছিলেন তা হলো ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ। আর আমরা যদি তাঁর আদর্শকে মনে প্রানে লালন করি তাহলে ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, সমগ্র জাতি গোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। প্রত্যেককে সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জাতীয় সংগীত এর মর্ম আমাদের বুঝতে হবে। যে জাতীয় সংগীত এর জন্য আমাদের মা বোন সম্ভ্রম হারিয়েছে। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার বিষয়ে কোন আপোষ নেই, বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারেও কোনো আপোষ করবো না।
মোকতাদির চৌধুরী আরো বলেন, মাদ্রাসার মৌলভী সাহেবদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারন ঐ মাদ্রাসা গুলোতে আমরাই দান খয়রাত করি। সুতরাং তারা যদি তাদের মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করেন, সেক্ষেত্রে আমরাও দায়ী।
তিনি বলেন, আপনারা আমার পক্ষে থাকবেন না, তবে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের পক্ষে থাকবেন। এটাই হচ্ছে আমার অনুরোধ। এখানে যারা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ও নৌকা প্রতীক নিয়ে আসবেন আপনারা তার পক্ষেই থাকবেন। আমি মনে করি আবারও শেখ হাসিনা সরকারি ক্ষমতায় আসা দরকার। সে জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, শেখ ফজলুল হক মণি শুধুই যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন না, তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামেরও অগ্রনায়ক ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলাকে যদি অটুট রাখতে চান তাহলে সকলের ঐকবদ্ধতার কোন বিকল্প নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি আমরা একটি সুন্দর সমাজ ও দেশ গঠন করতে পারি তাহলেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে পারবো।
জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, সিভিল সার্জন ডাঃ একরাম উল্লাহ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিসেস নায়ার কবির, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়ন ফিরোজুর রহমান ওলিও, জেলা জাসদ সভাপতি অ্যাডভোকেট আকতার হোসেন সাঈদ।
জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক মোঃ মনির হোসেনের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদা নাজনীন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত।
এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান বাবুল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভুইয়া, সাধারন সম্পাদক এম এ এইচ মাহবুব আলম, কমরেড নজরুল ইসলামসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ প্রমুখ।

এদিকে, এর আগে সকাল ৯ টায় জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com