সংবাদ শিরোনাম
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‍্যালী কমলগঞ্জে ট্র্যাকিং ডিভাইস সহ লজ্জাবতী বানর অবমুক্ত করন কর্মসূচি কমলগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা চিকিৎসা শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফিরলেন আল-মামুন সরকার কমলগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ সমাগ্রী বিতরণ আমরাই সরাইলের আ’লীগ, আমরা ছিলাম, আমরাই আছি ; প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বক্তারা বিজয়নগরে বন্যার পরিস্থিতি অবনতি।। প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন; পৌর মেয়র নায়ার কবির বিজয়নগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি’র জরুরী সভা অনুষ্ঠিত সরাইলে পশুর হাটে হাঁটু পানি।। বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতা।। লোকসানে ইজারাদার
ব্রহ্মপুত্র খননে নদের পরীক্ষামূলক ড্রেজিং কাজ শুরু

ব্রহ্মপুত্র খননে নদের পরীক্ষামূলক ড্রেজিং কাজ শুরু

শামিম ইশতিয়াক, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এককালের খরস্রোতা, এশিয়া মহাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘতম নদ পুরনো ব্রহ্মপুত্র খননে প্রথম পর্যায়ে ৯০ কিলোমিটার নদের পরীক্ষামূলক ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। ময়মনসিংহ শহরতলীর চর নিলক্ষীয়া এলাকায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল এর একটি ড্রেজার দিয়ে টেস্টিং কাজ শুরু হয়। আগামী মাসের শুরুতে নৌ- পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্যান্য সচিববৃন্দ আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধনের পরই পুরোদমে চলে ড্রেজিং কাজ। এদিকে খননকৃত মাটি কোথায় স্তুপাকৃত আকারে রাখা হবে তার সুনির্দিষ্ট জায়গা এখনো নির্ধারিত হয়নি। যার ফলে এসব মাটি রাখা নিয়ে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাফিজুল ইসলাম জানান, নদীর কাছাকাছি খাস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যা স্থানে মাটি রাখার জন্য জায়গা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান।
এদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এর কর্মকর্তারা জানান, ১০০ মিটার প্রশস্ত করে এবং শুকনো মৌসুমে ১০ ফুট পনর গভীরতা হিসেবে ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খননে মোট ৮.৮ কোটি ঘন মিটার মাটি উত্তোলন করা হবে। এই মাটি স্তুপাকৃত আকারে রাখতে প্রচুর জায়গার প্রয়োজন পড়বে। প্রয়োজন অনুসারে এসব জমি পেতে দেরী হওয়ায় সার্বিকখনন কাজেও দেরী হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে এই প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়েও আরো বেশী সময় লাগতে পারে।
সারা বছরব্যাপী পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানসমূহ নির্বিঘ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত, ব্রহ্মপূত্রে পানি প্রবাহ বৃদ্ধিসহ কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ১০০ মিটার প্রশস্ত করে ব্রহ্মপূত্র নদটি ড্রেজিং করা হচ্ছে এবং শুকনো মৌসুমে নদের তলদেশে কমপক্ষে ১০ ফুট পানির গভীরতা থাকবে। জামালপুর ইপিজেড এর অধিকাংশ মালামাল ব্রহ্মপূত্র নদ দিয়ে পরিবহন করা হবে। এই নৌ-পথ দিয়ে আসাম থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারি হয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ- ময়মনসিংহ-টোক-ভৈরব-চাঁদপুর-বরিশাল-মংলা- আংটিহারা হয়ে ভারতের কলকাতার হলদিয়া সমুদ্র বন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার টন ওজনের পণ্যবাহী কার্গো চলাচল করবে। সেই সাথে পর্যটনবাহী ছোট জাহাজও চলাচলের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে খুব সহজে এবং কম খরচে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা হবে।
বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যাবে; মিঠা পানিতে দেশীয় নানা প্রজাতির দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়বে; নদের আশপাশে সারাবছর সেচ সুবিধা পাবে; নদপাড়ের মানুষ বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে; পরিবেশ রক্ষাসহ এই নদ থেকে নানা সুফল পাবে জামালপুর, ময়মনসিংহ, শেরপুর, কুড়িগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ জেলার কয়েক ২ কোটি মানুষ।২০১৮ সালের ২ অক্টোবর নদটির নাব্যতা ফেরাতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজ করার প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ২০১৮ সালের ২ নভেম্বরে ময়মনসিংহ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন প্রকল্পের ভিত্তি নাম ফলক উন্মোচন করেন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ডেইজিং প্রকল্প পরিচালক রকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তুলাই এবং পুনর্ভবা নদীর নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার’ নামের প্রকল্পের মধ্যে দুই হাজার ৭শত ৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকায় ব্রহ্মপূত্র নদের ২২৭ কিলেমিটার ড্রেজিং কাজের পুরো প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রথম পর্যায়ে টোক থেকে ৯০ কিলোমিটার ৮টি প্যাকেজে ড্রেজিং করা হচ্ছে। বাকীটুকু দু’এক সামের মধ্যে দরপত্র আহবান করা হবে। ব্রহ্মপুত্রকে আবারও প্রাণ ফেরতেই এই পরিকল্পনা । ২০২৪ সালের ৩০জুন এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্রহ্মপূত্রের উৎসমূখ জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের পল্লীকান্দি হতে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার এবং এবং ১০০ মিটার প্রশস্ততায় নৌপথটি খননের ব্যবস্থা এ প্রকল্পে ধরা হয়েছে।
এছাড়া এই প্রকল্পে ব্রহ্মপূত্র নদের সংযোগকারী শাখা ঝিনাই নদীর জমালপুর ঝেলার মেলান্দহ উপজেলা হতে দাদভাঙ্গা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার খনন কাজও এ প্রকল্পে অন্তভূক্ত আছে। টোকেনদটি দুটি প্রবাহে বিভক্ত, দক্ষিণে ঢাকার দিক থেকে শীতকক্ষ্যায় এবং দক্ষিণ-পূর্বের দিকের ভৈরব বাজারের দিকে পুরাতন ব্রহ্মপূত্র প্রবাহিত হয়। পুরাতন ব্রহ্মপূত্রনদ পুনরুদ্ধারের জন্য টোক থেকে কটিয়াদি পর্যন্ত ড্রেজিং করা হচ্ছে।পুরাতন ব্রহ্মপূত্র নদ খননের ফলে শুধুমাত্র এই নদই নাব্যতা বৃদ্ধি পাবেনা বরং শুষ্ক মৌসুমে ঝিনাই, বংশী, বানার, শীতলক্ষ্যা নদীতেও পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে এবং নদীগুলোর নৌ-পদ দিয়ে সারাবছর দ্রুত এবং সহজ খরচে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন নিশ্চিত হবে। নৌ-পথে কার্গো চলাচলের মাধ্যমে পরিবহন অনেকাংশে কমানো যাবে। বন্যাকালীন সময়ে নদী তীরবর্তী ফসলী জমি ও স্থাপনা ভাঙ্গন কবলিত হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পাবে। ফলে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি ও সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এতে নারীসহ সকলের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে নারী ও শিশুদের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ১৯৮৮ সালে। কিন্তু সেইবার ভয়াবহ ভাঙনের কারণে এই উদ্যোগ ভেস্তে যায়। এরপর সরকার পরিবর্তন হলেও পুরাতন এই নদ খননের দাবি প্রেক্ষিত থেকে যায় বরাবরই। ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলন ও উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ ব্রহ্মপূত্র নদ খননের জন্য দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি, মানববন্ধন, রোডশো, পথসভা, সেমিনার, নৌকা বাইচ, নৌ-র‌্যালী, লিফলেট বিতরণ বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শম্ভুগঞ্জ গণকল্যাণ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে ব্রহ্মপূত্র খননের আবেদন আবেদন করেন । যার প্রেক্ষিতে নদী রক্ষা কমিশন ব্রহ্মপূত্র খননের জোড়ালো সুপারিশ করে সরকারের কাছে। জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূরুল আমিন কালাম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান ফকির ও ড. মোঃ সিরাজুল ইসলামসহ একটি প্রতিনিধি দল ব্রহ্মপূত্র নদের যমুনার উৎমূখে সন্যাসীর চর পর্যন্ত সরজমিনে পরিদর্শণ করে এবং ভিডিও চিত্র সাবেক নৌ-পরবহন মন্ত্রী শাজাহান সিরাজের কাছে হস্তান্তর করেন।
২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিলো পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খনন। ওই সময় সার্কিট হাউজে এক জনসভায় নদ খননের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুইবার ময়মনসিংহ সফরের সময় নদটি খননের অঙ্গীকার করে যান তৎকালীন নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও। 

ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com