স্টাফ রিপোর্টার//সময়নিউজবিডি
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটে উঠছে। এতে করে পুলিশের প্রতি বাড়ছে মানুষের আস্থা ও ভরসা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, থানার বর্তমান নেতৃত্বের কার্যকর উদ্যোগ ও নিয়মিত অভিযানের ফলে অপরাধের মাত্রা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত কয়েক মাসে কিশোর গ্যাং দমন, মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আগে যেখানে বিভিন্ন অপরাধ প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল এখন সেখানে দ্রুত পুলিশি প্রতিক্রিয়া এবং টহল ব্যবস্থার কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, সম্প্রতি কিছু কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হলে কোনো ধরনের হয়রানি বা আর্থিক লেনদেন ছাড়াই অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশের প্রতি তাদের আস্থা আরও বেড়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এগুলোর বেশিরভাগই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা আগে অনৈতিক সুবিধা ভোগ করতেন কিন্তু বর্তমানে তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারাই এসব অপপ্রচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিটি অভিযোগ যথাযথভাবে যাচাই এবং মনিটরিংয়ের জন্য জেলা পর্যায় থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অনিয়মের সুযোগ কমে এসেছে। থানার এসআই বলরাম চন্দ্র পাল বলেন, আমরা ওসি ফয়জুল আজম নোমানের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলার উন্নতিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আগের চেয়ে পরিস্থিতি অনেক ভালো। আগের মতো চুরি, ডাকাতি, গরু ও ট্রান্সফরমার চুরি এখন প্রায় নেই বললেই চলে। আমরা জনগণের জান মাল নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাগনভূঞা থানার ওসি তদন্তের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে সেই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি কৃতজ্ঞতা জানাই বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে। বিশেষ করে ফেনী জেলা পুলিশের প্রতি, আমাকে দাগনভূঞা থানায় ওসি (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে জনগণের সেবায় কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। এই থানার ইতিহাসে প্রথম নারী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ আমার জন্য যেমন গর্বের, তেমনি এটি একটি বড় দায়িত্বও। আমি বিশ্বাস করি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সঠিক তদন্ত, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রতি পুলিশি সেবাকে আরো কার্যকরভাবে পৌছে দেওয়ার জন্য আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কে কি অপপ্রচার করছে তা আমার দেখার বিষয় নয়। দাগনভূঞা থানাকে একটি জনবান্ধব, সেবামূলক ও পেশাদার তদন্তের মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই আমার অঙ্গীকার।
দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজম নোমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, পুলিশ চাইলেও সকল মানুষকে খুশি রাখতে পারে না। যাদের আবদার রক্ষা করতে পারি তাদের কাছে আমি প্রিয় একজন ওসি। যাদের অনৈতিক আবদার রাখতে পারি না তাদের কাছে আমি প্রিয় নই।
অপরদিকে সচেতন নাগরিকরা মনে করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো তথ্য প্রচারের আগে যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে দাগনভূঞা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়নে পুলিশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল দিতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা নাগরিকরা।
ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।
Leave a Reply