সংবাদ শিরোনাম
সরাইলে বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপন বিজয়নগরে অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ।। ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বিজয়নগরে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বিজয়নগরে আম্বিয়া মিজান বালিকা বিদ্যালয়ে শোক দিবস পালন বিজয়নগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস উদযাপন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রী পরিষদের ৯৮% মন্ত্রীরা খন্দকার মোশতাক এর মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিয়েছিলেন; উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি বিজয়নগরে আব্দুল্লাহ নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ ইতিহাস তার নিজের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধুকে সৃষ্টি করেছে এবং নিজের প্রয়োজনেই তাঁকে অমর করে রাখবে; কথাসাহিত্যিক রফিকুর রশীদ সাংবাদিক আব্দুল বাছিতের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে কমলগঞ্জে বিক্ষোভ সমাবেশ কমলগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় সাংবাদিক আব্দুল বাছিত গুরুতর আহত
কচুরিপানার কারনে ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী মৃত্য প্রায়

কচুরিপানার কারনে ঐতিহ্যবাহী ইছামতি নদী মৃত্য প্রায়

আজাদ নাদভী,সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ইছামতি নদীর অংশ দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানায় ভরে আছে। হুমকির মুখে নদী। কচুরিপানার জঞ্জাল পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে মরে যাচ্ছে নদীটি। হুমকিতে পড়ছে জলজ জীববৈচিত্র। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জেলেদের জীবন-জীবিকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীরা বলছেন, স্রােত কমে যাওয়ায় নদীটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে নাব্যতা-সংকট। জেগেছে ছােট-বড় চর। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নদীটি মরা খালে পরিণত হবে বলে তাঁদের আশঙ্কা। কচুরিপানা জমে নদীতে পানির স্রােত কম গেছে।
ধারণা করা হয় কচুরিপানার অর্কিড-সদেশ ফুলের সৌন্দর্যপ্রেমিক এক ব্রাজিলীয় পর্যটক ১৮শ’ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় কচুরিপানা নিয়ে আসেন। তারপর তা এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে, ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি  নদ নদী ,খাল, বিল জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। 
এমন পরিস্থিতিতে সরকার কচুরিপানার দৌরাত্ম্য হ্রাসে বাংলার জলাভূমি আইন, বাংলার মিউনিসিপ্যালিটি আইন, বাংলার স্থানীয় সরকার আইন এবং বাংলার স্থানীয় গ্রাম সরকার আইন সংশােধন করে। ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাড়ির আশপাশে কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘােষিত হয় এবং সরকারি পৃষ্ঠপােষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়াকে নাগরিক কর্তব্য ঘােষণা করা হয়। 
জানা যায়, এক সময় ইছামতির নদীর বুকে লঞ্চ-স্টীমার চলাচল করতো। কিন্তু কালের আবর্তে এখন মৃত প্রায় নদীটি। নাব্যতা সংকট ও দখলের কবলে হারিয়ে যেতে বসেছে খরস্রােতা ইছামতি। এখন ইছামতির বুকে লঞ্চ আর স্টীমারের হুইসেল বেঁজে উঠে না। হাজারাে মানুষ নৌযান চালিয়ে এখন আর জীবিকা নির্বাহ করে না। তাই মৃত ইছামতির বুক জুড়ে এখন জটলা পেকেছে শুধুই কচুরীপানা। এছাড়া কিছু জেলে কচুরীপানার জটলা পাকিয়ে মাছের কৃত্তিম অভয়ারণ্য তৈরি করে মাছ শিকার করে, ফলে কচুরীপানা স্রােতের সাথে অন্য স্থানে যেতে পারেনা। 

যৌবনদীপ্ত ইছামতী নদী যেন কৃষি জমির ন্যায় কচুরিপানায় জমিতে পরিণত হয়ে গেছে।

যৌবনদীপ্ত ইছামতির তীরে সিরাজদিখান বাজার গড়ে উঠেছিল। তৎকালীন সময়ে বাজারে হাজারাে মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠতো। ইছামতি নদী ঘিরে উপজেলার ইমামগঞ্জ, গ্রীগঞ্জ,ইছাপুরা, নোয়াপাড়া,  শিংপাড়া,বৌবাজার, নিমতলা, শেখেরনগর,মরিচা, সৈয়দপুর, রামকঞ্চদী, রাজানগর, বাহর ঘাটা, টকরহাট এলাকায় বাজার সরগরম করতো। কি এখন ওই সব বাজারের সামনে ইছামতি মরা খালে পরিণত হয়ে উঠেছে। এসব বাজারে যাতায়াত করতে এখন আর ডিঙ্গি নৌকা চলাচল করে না। চলে না ট্রলার কিংবা লঞ্চ। এতে অসংখ্য পরিবার বেকার হয়ে পড়ে। এখন ওই সব পরিবার অন্য পেশা বেছে নিয়েছে।
সিরাজদিখান বাজারের বাঁশ ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, আমি প্রায় ৪৫ বছর ধরে বাঁশ ব্যবসার সাথে জড়িত। এক সময় ইছামতি নদী ছিল খরস্রােতা। নদীর এক তীর থেকে অন্য তীরের দৈর্ঘ্য ছিল অনেক। এখন ইছামতি নদী ছােট হয়ে গেছে। নদীর বুক জুড়ে কচুরীপানায় ভরে যাওয়ায় এখন বাঁশ আনা নেওয়া করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছে। এখন নদীতে কােন ট্রলার বা নৌকা চলাচল করে না। তাই বাজারে বাঁশ সরবরাহ করতে এখন সড়ক পথ ব্যবহার করা হয় থাকে। এতে খরচও বেশী লাগে। 
বাজারের রাইছ মিলর ব্যবসায়ী নজরুল শেখ বলেন, ইছামতি নদীকে ঘিরে রাইচ মিল ছিল জমজমাট। এখন কচুরীপানার কারনে নৌকা বা ট্রলার চলাচল করতে পারে না। দুর-দুরান্ত থেকে বাজারের রাইছ মিলেও আসে না।


ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।   

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com