সংবাদ শিরোনাম
অবশেষে ৮০ দিন পর আগামী মঙ্গলবার থেকে চালু হতে যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন ওসি হিসেবে বিজয়নগরে লোকমান ও নাসিরনগরে হাবিবুল্লাহ সরকার’র যোগদান যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের আয়োজনে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত  ২০ জুনের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করুন ; আলোচনা সভায় বক্তাগন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একশত পুরোহিতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী বিতরণ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মাহবুবুল আলমের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নবীনগরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় ১ ব্যক্তি নিহত মাছের পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ রক্ষার্থে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অভিযান।। ১২ জেলে আটক ও সোয়া লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ অনলাইন নিউজ পোর্টাল ডিজিটাল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কার্যালয় উদ্বোধন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও  বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত 
দাদনের দায়ে শ্রমিক দিবসেও কাজ করছে চাতাল শ্রমিকরা

দাদনের দায়ে শ্রমিক দিবসেও কাজ করছে চাতাল শ্রমিকরা


বিশেষ প্রতিবেদক, সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর

দাদনের দায়ে শ্রমিক দিবসেও কাজ করছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের চাতাল শ্রমিকরা। তারা জানেনা মহান মে দিবস বা শ্রমিক দিবস কি? 
ঢাকা – সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা    তিন শতাধিক চাতাল মিলের অধিকাংশ শ্রমিক দাদন নিয়ে সঠিক সময়ে পরিশোধ করতে না পেরে বছরের পর বছর চাতালেই অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।কাজ অনুযায়ী সঠিক পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন না তারা।
সরেজমিন ঘুুরে বিভিন্ন চাতাল মিলে গিয়ে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়- সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান সিদ্ধ করা মাঠে শুকানো এবং তা থেকে চাল তৈরি সব কাজই করে  যাচ্ছেন শ্রমিকরা।

তাদের দাবি পরিশ্রম অনুযায়ী তাদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়া নারী-পুরুষের মজুরি বৈষম্য তো রয়েছেই। নারীরা পুরুষের সমান কাজ করলেও পারিশ্রমিক পায় পুরুষের তুলনায় অনেক কম। যেখানে একজন পুরুষ প্রতিদিন তিনশ’ টাকা পায় সেখানে একজন নারী পায় মাত্র ষাট টাকা। এসব চাতাল শ্রমিকরা জীবিকা নির্বাহের জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে আসেন। কেউ ঋণের দায় মাথায় নিয়ে কেউবা সংসারে অভাব অনটন ও নদী ভাঙনে সহায় সম্বল হারিয়ে। মালিকদের কাছ থেকে এককালীন দাদন নেয়ার পর যে বেতন পান তা দিয়ে দাদনের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে জিম্মি হয়ে থাকতে  হচ্ছে তাদের।
 কিশোরগঞ্জ থেকে আসা এরশাদ আলী জানান, মিলে আসার সময় মালিক আমাদের ৪৫/৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ সোয়া লাখ টাকা দাদন দেন। আমাদের সম্পূর্ণ কাজ প্রোডাকশনের ওপরে। প্রতি বস্তা ধান শুকানো থেকে শুরু করে ডেলিভারি পর্যন্ত ১৮ টাকা দেয়া হয় আমাদের। আমরা ১০/১৫ জন শ্রমিক একটি মাঠগেইলে কাজ করতে দুই/তিন দিন সময় লাগে। তাতে দৈনিক জন প্রতি তিনশত টাকা পাই। এই টাকা দিয়ে আমাদের বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো কষ্ট হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও অগ্রিম দাদন নেয়ায় ইচ্ছা করলেও আমরা পরিবারের কাছে যেতে পারি না। দাদন পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের কাছে বন্দি থাকতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাতাল শ্রমিক জানান, এক লাখ টাকার দাদনে বছরে ২০ হাজার টাকা কাটে। বাকি ৮০ হাজার টাকা। এ গুলো বছরে বছরে পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু মালিকরা যে টাকা বেতন দেন তা দিয়ে দাদনের ঋণ পরিশোধ করতে পারি না। 

চাতাল কলে কর্মরত নারী শ্রমিক আয়েশা বেগম বলেন, আমরা সারা দিন রৌদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে যে পরিশ্রম করি সে অনুযায়ী আমাদের বেতন পোষায় না। অথচ পুরুষদের থেকে আমাদের কষ্ট বেশি। কিন্তু পুরুষদের তুলনায় আমরা পারিশ্রমিক পাচ্ছি কম। আমরা নারীরা শ্রম বৈষ্যমের শিকার হচ্ছি।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ চাতাল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হরমোজ আলী বলেন, আমরা দুই বছর আগে সব শ্রমিকদের নিয়ে দাবি দাওয়া, বেতন মজুরি বাড়ানো জন্য আন্দোলন করেছিলাম। তারপরে ২/ ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে মিলের মালিক হুশিয়ারি করে দিয়ে বলেন, আমাদের দাদন দিয়ে দাও। কারণ অল্প বেতনে দাদন পরিশোধ করা সম্ভব না। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি আমাদের মজুরি যেন বাড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

এ ব্যাপারে চাতাল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান সিরাজ বলেন, চাতাল শিল্প একটা বড় শিল্প হলেও আমরা নীতিগতভাবে তাদের সম্পূর্ণ অধিকার দিতে পারি নাই। শ্রম আইন প্রয়োগ করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিক্ষে তা প্রয়োগ করা সম্ভব না। তাদের সুযোগ সুবিধার জন্য আমরা সব মালিকদের নিয়ে বসে চেষ্টা করব।

আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ নাজিমুল হায়দার বলেন, আমরা যে বিষয়টা জানতে পেরেছি শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য এবং মজুরি নিধারণ করা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। শ্রমিকদের আটকে রেখে নির্যাতনের বিষয়টি আমাদের নজরে এলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব। এখানে একটি শ্রম কল্যাণ কেন্দ্র আছে তাদের সঙ্গে কথা বলে শ্রম আইন যাতে সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হয় আমরা চেষ্টা করব।

ইনাম/সময়নিউজবিডি টুয়েন্টিফোর।

সংবাদটি পছন্দ হলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017 Somoynewsbd24.Com